দশ বছর আগে শবে
বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে
ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে
হত্যার ঘটনায় করা মামলায়
প্রধান আসামিসহ ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ
দিয়েছেন আদালত। অন্য আসামিদের মধ্যে ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলায়
৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা
জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান
এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১১
সালের ১৭ জুলাই শবে
বরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি
গ্রামের কেবলার চরে ডাকাত
সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে
হত্যা করা হয়েছিল।
নিহতরা
হলেন- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র
শামস রহিম শামীম (১৮),
মিরপুর বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান
বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান
পলাশ (২০), একই কলেজের
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল
(২১), উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত
(১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের
প্রথমবর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান
(১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি
অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির
(বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র
সিতাব জাবির মুনিব (২০)।
ঘটনার
পর নিহতদের বিরুদ্ধেই ডাকাতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর
পক্ষে সাভার মডেল থানায়
মামলা করেন আব্দুল মালেক
নামে এক বালু ব্যবসায়ী। অন্যদিকে
ছয় কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডে ৬০০ গ্রামবাসীকে আসামি
করে হত্যা মামলা করেন
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
চার্জশিটভুক্ত
৬০ আসামি হলেন—ডাকাতি
মামলার বাদি আব্দুল মালেক,
সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল
হোসেন রেফু, নিহর ওরফে
জমশের আলী, মীর হোসেন,
মজিবর রহমান, কবির হোসেন,
আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী
সোহাগ, আলম, রানা, আ.
হালিম, ছাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু,
মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার,
বশির, রুবেল, নূর ইসলাম,
আনিস, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত
হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল,
মাসুদ, নিজামউদ্দিন, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশা
মিয়া, তোতন, সাইফুল, রহিম,
শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন,
এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী,
দুলাল, আলম, আসলাম মিয়া,
শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান,
রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম,
মো: ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার
হোসেন, শামসুল হক ওরফে
শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার,
সেলিম ও মনির।
আসামিদের মধ্যে কবির হোসেন
ও রাশেদসহ তিনজন মারা গেছেন।
নিহত ছাত্রদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, হামলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ লোকই মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।